মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

সাম্প্রতিক কর্মকান্ড

গত ০২-০৯-২০১৯ খ্রিঃ সকাল অনুমান ০৮.০০ ঘটিকার সময় প্রতিদিনের মত সাইদুল ইসলাম(২৭), পিতা-মৃত সদর আলী, সাং-পশ্চিম বিলাশপুর, থানা-দূর্গাপুর, জেলা-নেত্রকোণা তার ব্যাটারি চালিত অটো নিয়ে বাড়ী হতে বের হয়ে যথাসময়ে বাড়িতে ফিরে না আসায় তার স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে দূর্গাপুর থানার জিডি নং ১১৫, তারিখ ০৩-০৯-২০১৯ খ্রিঃ লিপিবদ্ধ করেন। পরবর্তীতে ০৫-০৯-২০১৯ খ্রিঃ রাত অনুমান ২২.০০ ঘটিকায় নেত্রকোণা জেলার দূর্গাপুর থানাধীন মিনকিফান্দা সাকিনের মরাখলা পাহাড়ের পাশে বান্দরের টিলা পাহাড়ে আনুমানিক ৪০ ফুট উপরে দুর্গম জঙ্গলে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ পড়ে আছে মর্মে সংবাদের ভিত্তিতে দূর্গাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরনের শার্ট ও স্কচটেপ দ্বারা হাত পা এবং মুখমন্ডল বাঁধা অবস্থায় অর্ধগলিত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। মৃত ব্যক্তির পরনের শার্ট ও প্যান্ট দেখে তার নিকটাত্মীস্বজন নিখোঁজ সাইদুল ইসলামের মৃতদেহ বলে সনাক্ত করে। এ সংক্রান্তে মৃতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে দূর্গাপুর থানায় একটি হত্যার অভিযোগ দায়ের করলে দূর্গাপুর থানার মামলা নং ০৬, তারিখ-০৮-০৯-২০১৯ খ্রিঃ, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ দঃ বিঃ রুজু করা হয়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আকবর আলী মুন্সী সশরীরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ ও আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

উক্ত ঘটনা সংক্রান্তে তদন্তে জানা যায় যে, গাজীপুর হতে শাহীন @ মোল্লা(৩৫), পিতা-আব্দুর রহমান, সাং-কাঠালডাংড়ি, থানা-ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা-ময়মনসিংহ, মানিক মিয়া(২৭), পিতা-আশরাফুল @ আশারুল, সাং-পাকুরিয়া গনই মমিনাকান্দা, থানা ও জেলা-শেরপুর এবং তাদের অন্যতম সহযোগী দূর্গাপুরের বাসিন্দা সেকুল ইসলাম(২৭), পিতা-কমর উদ্দিন @ কেনু মেম্বার, সাং-লক্ষীপুর, থানা-দূর্গাপুর, জেলা-নেত্রকোণা এর সহযোগিতায় অটো ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক ০১-০৯-২০১৯ তারিখ শাহীন @ মোল্লা এবং মানিক মিয়া গাজীপুর হতে দূর্গাপুর আসে। ভিকটিম সাইদুল ইসলামকে সহজ সরল পেয়ে এবং তার অটোটির কন্ডিশন ভাল দেখে তারা ০৩ জন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঐদিন বিকালে অটোটি ভাড়া করে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু ছিনতাইয়ের কোন সুযোগ না পেয়ে সাইদুল ইসলামের মোবাইল নম্বর রেখে তাকে ছেড়ে দিয়ে বিরিশিরিস্থ স্বর্ণা গেষ্ট হাউজে রাত কাটায়। ০২-০৯-২০১৯ তারিখ দুপুরে তারা মোবাইল ফোনে ভিকটিম সাইদুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে আসে এবং পুনরায় অটোযোগে ঘুরতে থাকে। তারা ৩ জন ভিকটিম সাইদুল ইসলামের সাথে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি করে বান্দর টিলা পাহাড়ে ঘুরতে যায়। হত্যার পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সেকুল, মানিক ও শাহিন দূর্গাপুর বাজার হতে গামছা ও স্কচটেপ কিনে সাথে নিয়ে যায়। তারা সন্ধ্যার দিকে ভিকটিমকে দুর্গম বান্দর টিলা পাহাড়ে আনুমানিক ৪০ ফুট উপরে নিয়ে স্কচটেপ দিয়ে হাত পা বেঁধে গলায় গামছা পেঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে অটোটি নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন উঁচাখিলা বাজারের হক্কানি সাউন্ড এন্ড ব্যাটারির মালিক সবুজের কাছে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা ইতোপূর্বে সবুজ মিয়ার নিকট আরও চোরাই অটো বিক্রি করেছে।

পরবর্তীতে নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আকবর আলী মুন্সী মহোদয়ের প্রত্যক্ষ ও নিবিড় তদারকিতে নেত্রকোণা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন) জনাব এসএম আশরাফুল আলম, পিপিএম-সেবা (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নাতিপ্রাপ্ত) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর) জনাব মোঃ আলামিন হোসাইন (দূর্গাপুর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত) এর সমন্বয়ে একটি চৌকস টীম তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে সেকুলকে দূর্গাপুর থানাধীন লক্ষীপুর বাজার হতে আটক করে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন উঁচাখিলা বাজার হতে আসামী সবুজ মিয়ার হেফাজত হতে চোরাই অটোটি উদ্ধার করে এবং আসামী সবুজ মিয়াকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে ধৃত আসামীদের দেয়া তথ্যমতে ঐদিন গভীর রাতে শেরপুর জেলার সদর থানাধীন পাকুরিয়া গণই মমিনাকান্দা হতে হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যতম আসামী মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করে।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter